স্বর্ণ চোরাচালান, সম্পদ আর অদৃশ্য শক্তি; মীর শাহিনের ‘নাটকীয়’ সংবাদ সম্মেলনে লোক দেখানোর ব্যর্থ চেষ্টা!
দৈনিক আলোর সন্ধান ডেস্ক :
-
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
-
১৪২
বার পঠিত

পাটকেলঘাটায় স্বর্ণ ব্যবসার দ্বন্দ্বে আলোচিত ফারুক হত্যা সাথে জড়িত হলেও টাকা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন মীর শাহীন তার অভিযোগ ওঠেছে”
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাটকেলঘাটায় বহুল আলোচিত সোনা চোরাকারবারি সিন্ডিকেটের মুলহোতা মীর শাহিনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা অভিযোগ ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে অবশেষে সামনে এলো তার ‘নাটকীয়’ সংবাদ সম্মেলন। কিন্তু সেই সম্মেলন যেন প্রশ্নের জবাবের চেয়ে বরং প্রশ্নকেই আরও ঘনীভূত করল।
২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকালে ত্রিশ মাইল এলাকায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স তুবা পাইপ’-এ আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগ অস্বীকার করেন মীর শাহিন। তবে তার বক্তব্যে ছিল না নির্দিষ্ট কোনো তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা, বরং ছিল অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ আখ্যা দেওয়ার চেনা কৌশল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটার সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে আসা মীর শাহিন অল্প সময়েই গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদের মালিকানা। ‘তুবা পাইপ’ ছাড়াও তার ‘মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে স্বর্ণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। অথচ এই দ্রুত উত্থানের পেছনে বৈধতার চেয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, স্বর্ণ পাচার এবং অস্বচ্ছ লেনদেনের অভিযোগই বেশি শোনা যায়। অভিযোগ ওঠেছে মীর শাহিন বিভিন্ন কৌশলে চুকনগর আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও বিএনপির জামায়াতের একাধিক নেতা কর্মীদের ক্রাসফায়ার দেওয়া হত্যা মামলার আসামী সাবেক এসপি খুনি মনিরুজ্জামান কে ব্যবহার করে বিগতদিনে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
পাটকেলঘাটায় স্বর্ণ ব্যবসার দ্বন্দ্বে আলোচিত ফারুক হত্যা সাথে জড়িত হলেও টাকা দিয়ে নেজেকে আড়াল করেন মীর শাহীন। পুনরায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, যশোর ও খুলনায় একাধিকবার স্বর্ণসহ আটক হলেও রহস্যজনকভাবে প্রতিবারই মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পান তিনি। এ নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ ,আইন কি তবে টাকার কাছে বন্দী?
এছাড়া স্থানীয়দের দাবি, তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল ল্যাল্ড ক্রুজার গাড়িটি স্বর্ণ পাচার ও নারী সাপ্লাই কাজে কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি শাহিন। বরং তিনি দাবি করেন, আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রশ্ন উঠছে যদি সবকিছুই বৈধ হয়, তবে কেন বারবার একই ধরনের অভিযোগ? কেনই বা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তার ‘অদৃশ্য প্রভাব’ নিয়ে এত আলোচনা?
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, এই সংবাদ সম্মেলন ছিল মূলত জনমত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। বরং অভিযোগের জবাব নয়, বরং দায় এড়ানোর চেষ্টা চলছে।
পাটকেলঘাটাবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন মীর শাহিনের প্রকৃত ক্ষমতার উৎস কোথায়? আর কবে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত হবে?
এই ঘটনাকে ঘিরে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, আর একের পর এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো এলাকা।
এই জাতীয় আরও খবর