
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহাম্মদ মনিরুল মাওলাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২২-০৬-২৫) ইং রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে মনিরুল কে দুদকের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মহাজোট সরকারের আমলে তৎকালীন সরকারের সহযোগী এস আলম গ্রুপ প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ ভাবে ইসলামী ব্যাংক দখল করে। ব্যাংকটি জোর করে পরিচালনা পরিষদ পরিবর্তন করে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় ব্যাংকটি থেকে ভুয়া কোম্পানি দেখিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এস আলম গ্রুপ ও জুলাই আন্দোলনে অর্থ যোগানদাতা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সদস্য মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ চক্র। সময় টেলিভিশনের প্রতিবেদনে ৮ই ডিসেম্বর ২০২৩ই সালে দেখা যায় রাজ্জাক খান রাজ ও তার স্ত্রী দিলরুবা তনু ২৮ কোটি টাকার সম্পদের পরিবর্তে হাজার হাজার কোটি টাকা জাল জালিয়াতের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের লোন নিয়েছেন। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার পতনের পর এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সিঙ্গাপুর ও মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান চায়নায় পালিয়ে যায়। এস আলম ও মিনিস্টার গ্রুপের বিরুদ্ধে লুটপাটের একাধিক অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ জালিয়াতিসহ গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ গোয়েন্দা বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সাংবাদিকদের কাছে এসেছে।
সালমান এফ রহমান গ্রেফতার হলেও বহাল তবিয়তে আছেন জ্বলাই আন্দোলনে অর্থ দাতা ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা এম এ রাজ্জাক খান রাজ। জুলাই আন্দোলন দমন ও ছাত্রদের হত্যার পিছনে কোটি কোটি টাকা দিয়ে খুনি হাসিনা কে সহযোগিতা করার বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকার পতনের পর এম এ রাজ্জাক খান রাজ তার অপরাধ ঢেকতে তার নামে নিজস্ব ফেসবুক পেজ ডিএক্টিভ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই পেজ থেকে স্বৈরাচার খুনি হাসিনা তার যাবতীয় কর্মকাণ্ড প্রচার করতেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পলাশপাড়ার মৃত্যু আফজাল খানের পুত্র এম এ রাজ্জাক খান রাজের এলাকাবাসী এই মহা বাটপার কে দ্রুত গ্রেফতার করার জোর দাবি জানিয়েছেন। গত ২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে মিনিস্টার মাইওয়ান গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন সারাদেশের ভুক্তভোগী ডিলার ব্যবসায়ীগণ ও নিরাপদ জীবন চাই একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। এ সময় মিনিস্টার গ্রুপের উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, মিনিস্টার গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচাল দিলরুবা তনুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কর্মচারী ও ডিলার মালিক, নমিনীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জোরপূর্ব কোটি কোটি টাকা আদায় ও গুম করে অর্থ আদায় ও অন্যায় ভাবে জেলে দেওয়ার অসংখ্য প্রমাণ আছে। মিনিস্টার গ্রুপের সাবেক ডিভিশনাল ম্যানেজার নবাব আলী ও ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান জানান, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা চাকুরী ছেড়ে দিতে চাইলে বা অন্য কোম্পানিতে চাকুরীতে জয়েন করলে অফিসে ডেকে নিয়ে আবার এখনো জোর করে ধরে নিয়ে স্বৈরাচার খুনি হাসিনার অবৈধ ক্ষমতার দাপটে জেল জুলুম ও গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন এমএ রাজ্জাক খান ও তার পিএস সায়েম, এডমিন ম্যানেজার মুসফিকুর রহমান। তাহার নিজের কাছে রাখা অবৈধ ভাবে অস্ত্র দেখিয়ে ব্লান চেক ও ফাকা স্ট্যামে জোর করে সই নিতেন তার শত শত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মিনিস্টার গ্রুপের কোন কর্মচারী কর্মকর্তা চাকুরী শেষে পিএফ ফান্ড দেওয়ার নাম করে বেতনের ১০ শতাংশ কেটে রাখেন কিন্তু চাকুরী শেষে টাকা পাওয়ার আশায় বার বার অফিসে গিয়ে জুতার তলা ক্ষয় হয়ে গেলেও দেয়া হয় না। আমাদের প্রতিবেদক বক্তব্য নেওয়ার জন্য এম এ রাজ্জাক খান রাজের মোবাইলে (০১৮১৯২০৯২৩৪) একাধিকবার ফোন দিলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এছাড়াও বিএনপি ও জামাতপন্থী ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে মামলা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন দ্বিতীয় পর্বে আসছে…. (চলবে)