
হাসানুর রহমান হাসান, নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পাওয়া নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে সরকার কে বেকায়দায় ফেলতে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র ও ৬৫০ কোটি টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে ফের গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) একটি মামলা করেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
দিলীপ আগরওয়ালার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, সিআইডির অনুরোধে সংশ্লিষ্ট মামলার সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
জুলাই আন্দোলনে কিশোর হত্যা মামলার আসামি:
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন র্যাব। রাজধানীর গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামের এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। পরে আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
অর্থ পাচারের অভিযোগেও তদন্ত:
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিলীপ আগরওয়ালার বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডি মামলা করেছে। এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেন, পণ্যের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে তদন্তের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
মন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন:
কারামুক্তির পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে দিলীপ আগরওয়ালার উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে ওই অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি, আমন্ত্রণের প্রক্রিয়া এবং নিরাপত্তা যাচাই নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তথ্য যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, ১৯ অক্টোবরের গ্রেপ্তারটি সিআইডির মামলার সূত্রে হয়েছে বলে ডিবি জানিয়েছে। আগের হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলার বর্তমান অবস্থা এবং নতুন মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্যের পর আরও স্পষ্ট হবে।