অসুস্থ শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ পাটকেলঘাটায়: আওয়ামীলীগ পন্থী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা আরার বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তির দাবি
দৈনিক আলোর সন্ধান ডেস্ক :
প্রকাশের সময় :
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
৪২
বার পঠিত
আব্দুস সামাদ, নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সরুলিয়া ইউনিয়নের ১৩৯নং সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক অসুস্থ শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের খবর পাওয়া গেছে। ফল চুরির অপবাদ দিয়ে কান ধরে উঠবস করানোর ফলে ওই শিক্ষার্থী মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট বিদ্যালয় চলাকালীন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে মাল্টা ও লেবু চুরির ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ ওঠার পরই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা আরা ওই শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে কান ধরে উঠবস করতে বাধ্য করেন। শারীরিক নিগ্রহের শিকার মাসুদ রানা তালা উপজেলার সেফাত উল্লাহ ও মিনারা বেগম দম্পতির ছেলে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা মিনারা বেগম ও দাদা আব্দুল গফফার সরদার জানান, মাসুদ রানা আগে থেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিল। একজন অসুস্থ শিশুকে এভাবে কান ধরে উঠবস করিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে অপদস্থ করা চরম অন্যায়। ঘটনার দিন বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়িতে ফেরার পর থেকেই সে প্রচণ্ড পেটের ব্যথা ও বমিতে কাবু হয়ে পড়ে। পরে কান্নাকাটি করে সে তার মায়ের কাছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার নির্যাতনের কথা খুলে বলে। ঐ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পূর্বে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলেও অভিভাবক মহল দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামীমা আরা শারীরিক শাসনের কথা অস্বীকার না করে বলেন, “শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শাসন তুলে দেওয়ার কারণেই আজ শিক্ষার্থীদের এই অবস্থা।” একই সাথে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা তাঁর ওপর অনাবশ্যক খবরদারি করার চেষ্টা করছেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষাপরিবেশ এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ঘটনার সত্যতা যাচাই করে অবিলম্বে দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকের হাতে আর কোনো শিক্ষার্থী এভাবে নির্যাতনের শিকার না হয়।