পাটকেলঘাটায় রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ারের প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা ও প্রশাসনের ধীরগতি, জনমনে আতঙ্ক: আলোচনা-সমালোচনার ঝড়
দৈনিক আলোর সন্ধান ডেস্ক :
-
প্রকাশের সময় :
বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
-
৮৬
বার পঠিত

ইমরান, নিজস্ব প্রতিবেদক (সাতক্ষীরা):
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগের বিতর্কিত নেতা ও সাবেক ক্যাডার দেলোয়ার হোসেন টিটু জামায়াতের রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় পুনরায় প্রকাশ্যে আসার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিগত সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকলেও, বর্তমানে প্রভাবশালী মহলের পরোক্ষ মদদে এই ক্যাডার ও তার অনুসারীরা গোপনে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের এই শীর্ষ নেতার এমন তৎপরতায় স্থানীয় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে পুরো তালা-পাটকেলঘাটা এলাকায় এখন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। অভিযোগ ওঠেছে পুলিশ ও কিছু রাজনৈতিক দলের ব্যক্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে প্রকাশ্যে আসার সহযোগিতা করছেন।
### রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড দেলোয়ার: স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবি, তালা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন টিটু এলাকায় একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। বিগত সরকারের আমলে তার একক ইশারায় পাটকেলঘাটায় চলত ত্রাসের রাজত্ব। বর্তমানে সে পলাতক থাকলেও পর্দার আড়ালে থেকে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মহলের ছাত্রছায়ায় নিজের ক্যাডার বাহিনীকে পুনরায় সক্রিয় করার মিশন হাতে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অপকর্ম ও পূর্বের অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম:
* **ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বর্বর হামলা:** ধর্মীয় রীতিনীতি ও বিশ্বাসের ওপর আঘাত হানতে দেলোয়ার ছিল সিদ্ধহস্ত। বিগত বছরগুলোতে এলাকার একাধিক ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল জোরপূর্বক বন্ধ করা এবং দেশের প্রখ্যাত ধর্মীয় বক্তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও লাঞ্ছনার নেপথ্যের মূল কারিগর বা ‘মাস্টারমাইন্ড’ ছিল এই টিটু।
* **মামলা বাণিজ্য ও রাজনৈতিক হয়রানি:** এলাকায় ভিন্নমতাবলম্বী রাজনৈতিক নেতাকর্মী (বিএনপি-জামায়াত) সহ সাধারণ নিরীহ মানুষদের পুলিশি গ্রেপ্তার ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর মূল হোতা ছিল সে। মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা আটকদের ছাড়ানোর নামে সে কোটি কোটি টাকার ‘মামলা বাণিজ্য’ করেছে।
* **ভিটেমাটি দখল ও এলাকাছাড়া করার হুমকি:** দেলোয়ারের অন্যায় ও জুলুমের প্রতিবাদ করলেই নেমে আসত অমানুষিক নির্যাতন। বহু পরিবারকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে রাতারাতি ভিটেমাটি ছাড়া এবং এলাকাছাড়া করা হয়েছিল, যারা এখনো নিজ বাড়ি ফিরতে পারেননি।
### কৌশল বদলে এখন ঝোপঝাড় ও সামাজিক মাধ্যমে তৎপরতা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে দেলোয়ার হোসেন টিটু বর্তমানে পলাতক থাকলেও তার অনুসারীরা কৌশল পরিবর্তন করেছে। গোয়েন্দা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রশাসনের চোখ এড়াতে এই চক্রটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে উসকানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে।
একই সাথে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঝোপঝাড়, বাগান বা গোপন আস্তানায় বসে গভীর রাতে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা নাশকতার গোপন বৈঠক করছে। হঠাৎ করেই উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা ও সন্দেহজনক মোটরসাইকেল মহড়া আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বড় কোনো চক্রান্তের আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
### ক্যাডারদের মহড়া ও জনমনে তীব্র আতঙ্ক: একটি মহলের পরোক্ষ আশকারা ও রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় নিষিদ্ধ সংগঠনের এই শীর্ষ নেতার অনুসারী ছাত্র ও যুবলীগ ক্যাডাররা পুনরায় প্রকাশ্যে আসার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার হাট-বাজার ও মোড়গুলোতে সন্ধ্যা নামলেই তাদের উসকানিমূলক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন পর এই ক্যাডারদের হঠাৎ এভাবে প্রকাশ্যে আসার চেষ্টা ও মহড়ার খবরে সাধারণ ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নতুন করে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুরো এলাকায় এখন থমথমে ও অস্থির পরিবেশ বিরাজ করছে।
পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত। কোনো ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা বা গোপন ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। যারা এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে এবং যারা পুনরায় ক্যাডারদের মাঠে নামানোর চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তালা-পাটকেলঘাটা থানা এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
এই জাতীয় আরও খবর