পাটকেলঘাটায় যুবলীগ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন টিটুর নেতৃত্বে গোপন বৈঠক’ আ’লীগের প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী উপলক্ষে নাশকতার ছক, দ্রুত গ্রেফতার দাবি
দৈনিক আলোর সন্ধান ডেস্ক :
-
প্রকাশের সময় :
রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
-
১০৯
বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের আবুল হোসেন সরদার এর পুত্র দুর্ধর্ষ যুবলীগ ক্যাডার দেলোয়ার হোসেন টিটু দীর্ঘদিনের আত্মগোপন ভেঙে প্রকাশ্যে আসায় চরম উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তালা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও সরুলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি দেলওয়ার হোসেন টিটুর বিরুদ্ধে এলাকায় ফিরে গোপনে পাটকেলঘাটায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়ে বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে। ৫ই আগস্ট সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকা এই নেতার হঠাৎ তৎপরতায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক।
রহস্যময় ‘গোপন বৈঠক’ ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এজেন্ডা
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সরুলিয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড়া এলাকায় ও তার পাটকেলঘাটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেলওয়ার হোসেন টিটুর নেতৃত্বে গভীর রাতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডারদের নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ই আগস্টের পর যেখানে দলটির শীর্ষ নেতারা এখনো আত্মগোপনে, সেখানে তৃণমূলের এই নেতার এমন আকস্মিক তৎপরতার পেছনে কোনো বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির ছক রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
এক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন:
“যুবলীগ ক্যাডার দেলোয়ার এতদিন এলাকায় ছিলেন না। হঠাৎ করে এসে রাতে গোপনে লোক জড়ো করছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই ধরনের গোপন বৈঠক কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। আমরা আতঙ্কে আছি।”
দেলওয়ার হোসেন টিটুর বিরুদ্ধে শুধু গোপন বৈঠকেরই নয়, বিগত সরকারের আমলে এলাকায় ব্যাপক প্রভাব খাটানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, বিগত বছরগুলোতে ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করা, ধর্মীয় বক্তাদের উপর বর্বরোচিত হামলার সহ বিএনপি, জামায়াত, ভিন্নমতাবলম্বী নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে পুলিশি গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানি করার নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই টিটু। তার ইশারায় বহু নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে এলাকাছাড়া করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য দেলওয়ার হোসেন টিটুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এলাকাতেও তাকে প্রকাশ্যে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে না, কেবল নির্দিষ্ট কিছু সময়ে গোপন বৈঠকেই তার উপস্থিতি মিলছে বলে সূত্র জানায়।
অন্যদিকে, পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানা যায় দেলোয়ার হোসেন বিরুদ্ধে বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ আছে। তাকে গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে যেকোনো ধরনের গোপন তৎপরতার ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সুশীল সমাজ ও স্থানীয়দের দাবি:
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অনতিবিলম্বে এই ‘গোপন বৈঠক’ এর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। দেলওয়ার হোসেন টিটুর অতীত অপরাধ ও বর্তমান তৎপরতা খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এই জাতীয় আরও খবর