
কে এই ফরহাদ, তার খুঁটির জোর কোথায়? দ্রুত গ্রেফতারের দাবি ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের।
নিজস্ব প্রতিনিধি:
কখনও নারীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, কখনো প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে প্রতারণা, আবার কখনো সাংবাদিক বা পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মানুষকে হুমকি ধুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে আশাশুনি উপজেলার গাজী ফরহাদের বিরুদ্ধে। সে আশাশুনি উপজেলার বসুখালী বালিপুর গ্রামের হামিদুল গাজীর ছেলে হাবিবুল বাশার ওরফে গাজী ফরহাদ।
কথিত সাংবাদিক ও পুলিশের সোর্স পরিচয়ে একাধিক প্রতারণা করে বিয়ে, চাঁদাবাজি, দালালি ও নারীঘটিত কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিক মামলার আসামি হলেও অদৃশ্য শক্তির কারণে মামলায় গ্রেফতার হয়না। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজেকে স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক ও বিদেশী স্যাটেলাইট টেলিভিশনের সাংবাদিক ও কালবেলা ও স্টার নিউজ এর লগো ব্যবহার করে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে নিউজের নামে মানুষ কে ভয় ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে আসচ্ছে। তার বৈধ কোন আয় বা কোন ব্যবসা না থাকলেও বর্তমানে সে সদর উপজেলার এসপি বাংলোর সামনে ভিআইপি বাসা ও অফিস ভাড়া নিয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ড ও বেপরোয়া বিলাসী জীবন যাপন করছে।
৫ই আগষ্ট ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই আওয়ামী লীগের দোসর গাজী ফরহাদ সেই যাত্রায় পালিয়ে রক্ষা পায়। পরবর্তীতে সে ফের সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপর চালাচ্ছে। তার কর্মকাণ্ডে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা কর্মীরা প্রচন্ডভাবে ক্ষুব্ধ, তাকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছে সাতক্ষীরার সচেতন নাগরিক মহল।
ঘটনা সূত্রে আরও জানা যায়, বিগতদিনে ছাত্র শিবিরের জেলা সেক্রেটারি আমিনুর রহমান ও বিএনপি সমর্থিত আনারুল চেয়ারম্যান সহ অগণিত বিএনপি জামায়াতের নেতা কর্মীদের ক্রাসফায়ারের মূল হোতা ও ডজন খানেক হত্যা মামলার আসামি সাবেক এসপি মনিরুজ্জামানের একান্ত সোর্স গাজী ফরহাদ বিভিন্ন সময় মিথ্যা সংবাদ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ করে সাতক্ষীরার পরিবেশকে অশান্ত করার চেস্টা করছে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রতারক এরতেজার সোর্স হিসাবেও সাতক্ষীরা শহরে পরিচিত হয়েছে।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন হলুদ সংবাদিক গাজী ফরহাদ সাতক্ষীরা পৌরসভার সিও মাদকাসক্ত আওয়ামী লীগের দোসর নাজিম উদ্দিন কে মদ ও নারী সাপ্লাই দিয়ে বিএনপি সমর্থিত সাতক্ষীরা পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র তাসকিন আহমেদ চিশতির নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার ও একাধিক হত্যা মামলার আসামী সাবেক সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামানের ব্যবহার করে একাধিক মিথ্যা নাশকতা মামলা দিয়ে অবৈধভাবে বরখাস্ত করায়।
বিএনপি জামায়াতের অনেক কে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরে নিয়ে মামলার ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা জোরপূর্বক আদায় করার অভিযোগ আছে। তার নামে সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় নারি কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজির মামলা আছে।
সাতক্ষীরার জুলাই যোদ্ধা নাজমুল ইসলাম রনি ও মৎস্যজীবী দলের নেতা মোফাজ্জল বিশ্বাস বলেন এবং সাংবাদিক পার্থ বলেন, ছাত্রলীগের ক্যাডার কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে গাজী ফরহাদ বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচারের নামে ব্ল্যাকমেইল করে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও অপকর্ম করে আসচ্ছে। সে আওয়ামী লীগের জেলার পদধারী নেতা। দ্রুত গ্রেফতার করা আইনের আওতায় আনা হোক।
এদিকে গাজী ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে সাতক্ষীরার সিনিয়র সাংবাদিকদের বড় একটি অংশও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, ভুয়া সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি পেশাটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত গাজী ফরহাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
সচেতন নাগরিক মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দ্রুত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।