
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা সদরের ০৮ নং ধুলিহর ইউনিয়নের ফ্যাসিষ্ট আ’লীগ কর্মীকে সদস্য করে ওয়ার্ড বিএনপির কমিটি ঘোষণার পরপরই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে। ২০২৪ সালের ৫ ই আগষ্টের পর এমন অবাঞ্চিত কমিটি ঘোষণা হওয়ায় হতবাক হয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি- ১৭ বছর নির্যাতিত হামলা-মামলার শিকার ওয়ার্ড বিএনপির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ কর্মী মোস্তাফিজুর কে ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য করা হয়েছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) ধুলিহর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাকৃত কমিটিতে মোস্তাফিজুর কে সদস্য করার খবর ছড়িয়ে পড়লে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়। নেতাকর্মীদের দাবি- এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হবেন দলটি। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এর কারণ হিসেবে বলছেন যে এটি রাজনৈতিক বিভাজন কমাতে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ, তবে বিষয়টি নিয়ে বিএনপির তৃণমূল অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদরের ৮নং ধুলিহর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা বাচ্চুর ছেলে মোস্তাফিজুর ছিলেন ওয়ার্ড আ’লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদরের এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবি সহ অন্যান্য একাধিক নেতাদের সাথে আ’লীগের সকল দলীয় কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে পালন করতেন।
সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সাথে মিলে মোস্তাফিজুর স্বৈরাচার আ’লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই এলাকার জমি দখল, দালালি ও শালিশ বিচারের নামে সাধারণ মানুষের উপরে জুলুম অত্যাচার চালিয়ে লুটপাট করে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন। এ সকল কাজে তাদের সহযোগীতা করতেন সাবেক সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবির একজন অনুসারী। এমনকি প্রশাসনের বেশ কিছু কর্মকর্তার সাথে তারা সুসম্পর্ক গড়ে তুলে ছিলেন। যে কারণে বিগত দিনে তাদের অপকর্মগুলো এড়িয়ে যেতেন প্রশাসনের সেই অসাধু কর্মকর্তারা। আ’লীগ কর্মী মোস্তাফিজুর কাদের ছত্রছায়ায় থেকে বিএনপির পদ বাগিয়ে নিয়েছেন এমন প্রশ্ন এখন প্রতিটি নেতাকর্মীর মনে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, জেলা থেকে উপজেলায় এবং ইউনিয়ন থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা ছিল, এমন লোকদের প্রাধান্য দিতে হবে, যারা বিগত দিনে দলের স্বার্থে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন রাজনীতি সেবার জন্য হোক, আয়ের উৎস হিসেবে নয়। তারেক রহমানের সেই নির্দেশনাকে উপেক্ষা করেছেন খোদ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপির নেতাকর্মী জানান- সাংগঠনিক টিম প্রধান ও উপজেলা বিএনপি এবং ইউনিয়ন বিএনপির নেতা কর্মীদের উপস্থিতিতে সদরের ৮নং ধুলিহর ইউনিয়নের আওতাধীন ৯টি ওয়ার্ড বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের মতো দায়িত্বশীল নেতাদের এত বড় ভূল হয় কিভাবে? দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনাও তারা মানেন নি। এ বিষয়ে ১নং ওয়ার্ডের নব-গঠিত বিএনপির সদস্য ও সাবেক আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর জানান, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা দেখাতে পারলে আমি বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি নেব। তাছাড়া আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ জানান- এমন কোন বিষয় আমার জানা নেই। তবে এর সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।