সাতক্ষীরায় নিষিদ্ধ আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও ছাত্রলীগ ক্যাডার জুয়েলের অপতৎপরতায় তোলপাড়: গ্রেফতারের দাবিতে ফুঁসছে সাতক্ষীরা
দৈনিক আলোর সন্ধান ডেস্ক :
প্রকাশের সময় :
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
৮৬
বার পঠিত
রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাতক্ষীরা জেলার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের বিতর্কিত নেতা ফরিদ হোসেন জুয়েলের নানাবিধ অপরাধ ও অপতৎপরতায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা। পলাতক থেকেও এই চক্রের পর্দার অন্তরালের কর্মকাণ্ড এবং ছদ্মবেশে সরকার বিরোধী মিছিলে অংশ নেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
#কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ‘ক্রসফায়ার’ হুকুমের মামলার আসামি নজরুল
অনুসন্ধানে জানা যায়, নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ব্যাপক দুর্নীতির সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়ার নির্দেশদাতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। ৫ আগস্টের পর থেকে এই হেভিওয়েট আওয়ামী লীগ নেতা পলাতক থাকলেও তার পেছনের সিন্ডিকেট এখনো সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
#ছদ্মবেশে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েলের সরকার বিরোধী তৎপরতা
নজরুল ইসলামের অন্যতম সহযোগী ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি (কারো মতে সরুলিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি) ফরিদ হোসেন জুয়েলের বিরুদ্ধে ছদ্মবেশে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত একটি সরকার বিরোধী মিছিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ছদ্মবেশে অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে এই জুয়েলকে। পাটকেলঘাটা থানার দায়পাড়ার মনিরুজ্জামান মনির ছেলে এই ছাত্রলীগ ক্যাডার মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চরম উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
> **অপরাধের খতিয়ান ও সাইবার ক্রাইম:**
> নিজের ফেসবুক আইডি এবং বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করে বর্তমান রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নিয়মিত বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন জুয়েল। সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়া ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ বা প্রচলিত আইন অনুযায়ী একটি গুরুতর অপরাধ। এছাড়া এই ছাত্রলীগ ক্যাডারের বিরুদ্ধে এলাকায় নারী কেলেঙ্কারি ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক সামাজিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
### প্রশাসনের বক্তব্য ও স্থানীয়দের দাবি:
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদ হাসান জুয়েলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি রিসিভ হয়নি।
পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেসবুকে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক পোস্টের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা এবং সরকার বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এলাকাবাসীর তীব্র দাবি, গ্রামীণ জনপদে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই অপরাধী চক্রের অপতৎপরতা রুখতে কোটি টাকা আত্মসাতকারী নজরুল ইসলাম এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের ক্যাডার ফরিদ হাসান জুয়েলকে অতি দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা হোক।