
পাটকেলঘাটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত থানার ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবীরের রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে জনমনে চরম প্রশ্ন
মশফেকুজ্জামান ইমন, নিজস্ব প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন থানায় আলোচিত অপরাধী, মাদক কারবারি ও নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের বিশেষ অভিযান ‘ডেভিল হান্ট-২’ জোরদার করা হলেও তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানায় এ অভিযানের কার্যকর কোনো অগ্রগতি না থাকায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে পাটকেলঘাটা থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবীরের দীর্ঘদিনের নীরবতা ও দৃশ্যমান অভিযানের অভাব আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর থানায় সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডেভিল হান্ট-২’ অভিযানে একাধিক চিহ্নিত অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার হলেও পাটকেলঘাটা থানায় এখনো পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাটকেলঘাটা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নাশকতার কর্মকাণ্ডের গোপন তৎপরতা চললেও থানার পক্ষ থেকে কার্যকর অভিযান না থাকায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে থানার ওসি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন।
এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাটকেলঘাটা থানার ওসি এ এইচ এম লুৎফুল কবীরের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা কিংবা আশাব্যঞ্জক বার্তা পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশের এই নীরবতা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
পাটকেলঘাটা থানার জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মতে, জেলার অন্যান্য থানায় যখন অপরাধ দমনে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তখন পাটকেলঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা পুরো ‘ডেভিল হান্ট-২’ অভিযানের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, পাটকেলঘাটা থানার ওসি’র ভূমিকা এখন প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আওতায় এনে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে তদন্ত হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধী ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।