
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় ভূমি মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের হস্তক্ষেপে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিস স্থানান্তর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা তোজাম্মেল হোসেন ও দিনেশ চন্দ্র মণ্ডল জামায়াত পন্থী খাজরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই কর্তৃক ভূমি অফিস স্থানান্তরের জনবিরোধী এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রার্থনা করে আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) ভুমি মন্ত্রী সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে আপাতত ভূমি অফিসের কাজ বন্ধ রেখে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আলাপ করতে নির্দেশনা প্রদান করেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদ্বয়ের লিখিত আবেদনের বরাতে জানা গেছে, ১০০ বছর আগে থেকেই খাজরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পরিচালিত হতো। ১৯৭১ সালে পাক বাহিনীর হামলায় ভূমি অফিসটি ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়। এরপর থেকে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের একটি কক্ষে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ভূমি অফিসের নামে পাক সরকারের ঘোষণা মতে .০১৫ শতক জমি প্রথমে বিভাগীয় কমিশনারের নামে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক আলী মোড়ল হস্তান্তর করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সাতক্ষীরা জেলা ঘোষণা হলে পূনরায় উক্ত চেয়ারম্যান সাহেব জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা বরাবর পূনরায় কোবলা মূলে আরেকটি দলিল করে দেন। কিন্তু ১৯৯১-৯২ সালে ভূমি জরিপের সময় অজ্ঞাত কারনে ওই সরকারি সম্পত্তি রেকর্ড হয়নি। ভূমি অফিসটি খাজরা ইউনিয়নের ৯টি মৌজার মধ্যে ৬টি মৌজার মধ্যভাগে অবস্থিত এবং উপজেলা সদর থেকে খাজরা ভূমি অফিস পর্যন্ত কার্পেটিংয়ের রাস্তা রয়েছে। এর চারপাশে মসজিদ, মন্দির, হাইস্কুল, দাখিল মাদ্রাসা, হাসপাতাল, বড় বাজার, কৃষি অফিস, প্রাণী সম্পদ অফিস, মহিলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, খেলার মাঠ, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি সৌধ রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস নিজস্ব সম্পত্তিতে নির্মানের ঘোষণা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল হাই খাজরা তহশীল অফিসে যোগদান করার পর পরই এলাকাবাসী ও সরকারি মতামতকে উপেক্ষা করা শুরু করেছেন। তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে না জানিয়ে গত বছরের ২৬ এপ্রিল ১২৪ নং স্মারকে গোপনে ভূমি অফিসটি গদাইপুর নামক স্থানে স্থানান্তর করার জন্য প্রত্যয়ন পত্র দাখিল করেন।
এই প্রত্যয়ন পত্রের কোন ছায়ালিপি তিনি দিতে অস্বীকার করেন। অফিসটি স্থানান্তরের কথা শুনে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ দ্বিমত পোষণ করেন। কারণ বহুপূর্বে গদাইপুরে যখন ভূমি অফিস ছিল তখন সেখানে ডাকাতি করে কয়েকটি মৌজার রেকর্ড বই চুরি হলে অফিসটি পূনরায় খাজরা ইউনিয়ন পরিষদে স্থানান্তরিত করা হয়। ভূমি অফিস স্থানান্তরের বিষয়ে জানার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশাশুনি ও সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসককে সরজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছি। ভূমি অফিসটি ৬টি মৌজার মধ্যবর্তী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন অফিসের নিজস্ব জমিতে নির্মাণের দাবিকে সমর্থন করায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রীকে সাধুবাদ জানিয়ে জামায়াত পন্থী দুর্নীতি গ্রস্ত তহশীলদার মোঃ আব্দুল হাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বাদী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।