
রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
“সবুজে-ভরা পরিবেশ গড়ি”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার তৈলকুপী মারকাযুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছ বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পাটকেলঘাটা থানার তৈলকুপী মারকাযুল কুরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর হাতে ফলজ গাছ তুলে দেন SUPPORT HUMANITY সংগঠনের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান (আরিয়ান)।
সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের যুগীপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফ মোড়লের বড় ছেলে এলাকার কৃতি সন্তান মেহেদী হাসান মানবিক কাজের মাধ্যমে এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তিনি বর্তমানে সাপোর্ট হিউমিনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ছোটবেলা পড়াশোনার পাশাপাশি থেকেই তিনি সমাজ সেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন। এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা, অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ বহন করা, পথশিশু ও দুস্থদের খাবারের ব্যবস্থা করা—এসব কাজের মধ্য দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
মেহেদী হাসান (আরিয়ান) বলেন, “আমরা চাই প্রতিটি শিশু একটি গাছ লাগাবে, গাছের মতো বড় হবে—প্রকৃতি ও মানুষের উপকারে আসবে। SUPPORT HUMANITY সবসময় সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাবে।”
অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, SUPPORT HUMANITY দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, মুহতামিম মাও: মুস্তাফিজুর রহমান, প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হাসানুর রহমান হাসান, উপদেষ্টা জাফর সরদার সহ শিক্ষকবৃন্দ সংগঠনটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই ধরনের কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি করবে এবং তাদের সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, “মেহেদী হাসান শুধু নিজ গ্রামের নয়, পুরো অঞ্চলের গর্ব। তাঁর মতো তরুণরা সমাজের জন্য অনুকরণীয়।”মেহেদী হাসান নিঃস্বার্থভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে তিনি গ্রামের বিভিন্ন পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন এবং অসুস্থ রোগীদের জন্য নিজ উদ্যোগে চিকিৎসা সহযোগিতা করেন। বর্তমানে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েও তিনি নজির স্থাপন করেছেন।
এসময় মাদ্রাসার শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে হিমসাগর, গোপালভোগ, আমরুপালী, গোবিন্দভোগ সহ নানা প্রজাতির ১০০টি ফলজ গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।