সোহারাফ হোসেন সৌরভ, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় সাতক্ষীরার ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের দাবি জোরদার হয়েছে। জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দুঃসময়ে রাজপথে যারা নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে সুযোগসন্ধানীদের পদ-পদবী দেওয়া হলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়বে।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ তারিকুল হাসান বলেন, আমরা যারা রাজপথে লাঠি, গুলি, মামলা-মোকদ্দমা মোকাবিলা করেছি, তারা যদি বঞ্চিত হই আর সুযোগসন্ধানীরা যদি পদ-পদবী পায়, তাহলে সংগঠন কোনোদিনই শক্তিশালী হবে না। দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দেওয়া মানেই বিএনপির ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।
এ বিষয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী আলাউদ্দীন বলেন, জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠনে অবশ্যই তৃণমূলের মতামতকে প্রতিফলিত করতে হবে। যারা প্রকৃত আন্দোলনে ছিলেন, মামলা-হামলা মোকাবিলা করেছেন, তাদেরকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। দল যদি মাঠের কর্মীদের মূল্যায়ন করে, তবে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
অন্যদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক এডভোকেট কামরুজ্জামান ভূট্টো বলেন, ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে যদি কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক হতাশা তৈরি হবে। এজন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পদ-পদবী বণ্টন করা জরুরি। কর্মীরা সবসময় আশা করে যে তাদের ত্যাগ-তিতিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা আরও বলেন, সাতক্ষীরার রাজপথে বছরের পর বছর ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসা নেতারা সবসময় ত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে দলের শক্তি বাড়িয়েছেন। সেই নেতাদের সামনে আনা গেলে শুধু জেলা নয়, বরং কেন্দ্রীয় পর্যায়েও বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও সুসংহত ও শক্তিশালী হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপি যদি প্রকৃত ত্যাগী নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, তবে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা নতুন উদ্যমে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে। আর যদি উল্টো সুযোগসন্ধানীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, তাহলে দল আরও ভাঙনের মুখে পড়বে।
সাতক্ষীরার নেতাদের দাবি রাজপথে যারা রক্ত দিয়েছে, মামলা-হামলা সয়েছে, কারাভোগ করেছে—তাদেরকেই নেতৃত্বের আসনে বসাতে হবে। তাহলেই বিএনপি আগামী দিনের আন্দোলনে সফলতা অর্জন করতে পারবে।