প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৩:১৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১৯, ২০২৫, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আধুনিক প্রযুক্তিতে ড্রাগন চাষে সাড়া

আসমা আইরিন, নিজস্ব প্রতিনিধি:
আধুনিক প্রযুক্তিতে ড্রাগন চাষে সাড়া ফেলেছে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা। অদম্য ইচ্ছা, সাহস ও পরিশ্রম দিয়ে যে সাফল্য অর্জন করা যায়—তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মাসুম বিল্লাহ। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রাগন চাষে উল্লেখযোগ্য ফলন বাড়িয়ে তিনি এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। দৈনিক বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্যোক্তা ও কৃষকরা তার ড্রাগন বাগান দেখতে ভিড় করছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, পুরো জমিজুড়ে ৫ ফুট উচ্চতার ১৬০০ কংক্রিটের খুঁটি বসানো হয়েছে। প্রতিটি খুঁটির দূরত্ব দৈর্ঘ্যে সাড়ে ৭ ফুট ও প্রস্থে সাড়ে ৬ ফুট। খুঁটির মাথায় স্থাপন করা হয়েছে পুরোনো টায়ার, যার চারদিকে বাগানের মতো করে ঝুলছে ৪টি করে সতেজ ও সবল ড্রাগন গাছ। চারদিকে সবুজ পাতার সমারোহ আর রঙিন ফুল-ফলের মোহনীয় দৃশ্য মন কেড়ে নেয়।
শীতকালে ড্রাগন গাছে ফলন কমে যায়—এ বিষয়টি মাথায় রেখে মাসুম বিল্লাহ বাগানে প্রায় ২৫০টি অতিরিক্ত বাঁশের খুঁটি বসিয়ে বিশেষ চীনা লাইট বা বাল্ব স্থাপন করেন। এসব আলো গাছের ফুল ফোটাতে সহায়তা করছে বলে জানান তিনি। সন্ধ্যা নামলেই ড্রাগনের ফুল ফোটার দৃশ্য দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে বাগান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
তিনি জানান, এপ্রিল থেকে ড্রাগন গাছে ফুল আসে এবং প্রায় ৪০ দিন পর ফল তোলা যায়। আগাছা দমন ও মাটিতে আর্দ্রতা ধরে রাখতে পুরো খেতে মালচিং পেপার ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ক্ষতিকর টনিক ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে চাষ করার কারণে ফলের গুণগত মানও ভালো থাকে।
বর্তমানে বাগান পরিচর্যায় ৬ জন শ্রমিক সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কিছু চাষি বাজারে দ্রুত ফল আনতে ক্ষতিকর টনিক ব্যবহার করেন। এতে আমাদের মতো প্রকৃত চাষীরা সঠিক দাম থেকে বঞ্চিত হই।”
তার মতো তালার বলরামপুরের মেহেদী হাসান রাজু, ঘোনা গ্রামের ফারুক গাজী ও মিন্টুও ড্রাগন চাষে সফলতা পেয়েছেন। মাসুম বিল্লাহ ভবিষ্যতে আরও ১৫–২০ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষের পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন ১২০ থেকে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের চাষ হয়েছে এবং মোট ২৫ জন চাষী এ আবাদে যুক্ত আছেন। অনেকেই বাড়ির আঙিনা ও ছাদেও চাষ করছেন। মাঝারি উঁচু দো-আঁশ মাটি ড্রাগন চাষের জন্য উপযোগী এবং প্রতি বিঘায় গড়ে ৩০ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া সম্ভব।
আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই ড্রাগন চাষ তালা উপজেলার কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে।
Copyright © 2026 দৈনিক আলোর সন্ধান. All rights reserved.