প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৪:৪৩ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় যুবলীগ ক্যাডার দেলোয়ার এখন পলাতক: তার নেতৃত্বেই ছিল নাশকতার ছক, পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা পেল তালা-পাটকেলঘাটা
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় বড় ধরনের নাশকতার অপচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। তালা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি পলাতক ক্যাডার দেলোয়ার হোসেন টিটু নেতৃত্বে সরাসরি একদল ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসী পুরো এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা সৃষ্টির ছক এঁকেছিল। তবে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে প্রকাশ্যে তারা মাঠে নামতে পারেনি। নাশকতার পরিকল্পনা ফাঁস হওয়ার পর থেকেই গ্রেপ্তার এড়াতে দেলোয়ার হোসেন টিটু আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো পাটকেলঘাটা এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
কে এই নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড দেলোয়ার টিটু?
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, দেলোয়ার হোসেন টিটু শুধু বর্তমান নাশকতার পরিকল্পনাকারীই নন, বরং বিগত সরকারের আমলে এলাকায় তার নামে চলত ত্রাসের রাজত্ব। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পলাতক থাকা এই ক্যাডারের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট অনেক অভিযোগ রয়েছে।
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে বাধা:
বিগত বছরগুলোতে এলাকায় ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করা এবং ধর্মীয় বক্তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো, রাজনৈতিক হয়রানি ও মামলা বাণিজ্য সহ বিএনপি, জামায়াত, ভিন্নমতাবলম্বী নেতাকর্মীসহ বহু সাধারণ মানুষকে পুলিশি গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক মামলা দিয়ে হয়রানি করার নেপথ্যের মূল কারিগর বা 'মাস্টারমাইন্ড' ছিলেন এই টিটু।
এলাকাছাড়া করার হুমকি:
তার একক ইশারায় বহু নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে ভিটেমাটি ও এলাকাছাড়া করা হয়েছিল।
প্রশাসনের কঠোর অ্যাকশন: ভেস্তে গেল মূল পরিকল্পনা:
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলার যে ছক আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা তৈরি করেছিল, তা কঠোর হাতে দমন করা হয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক ও মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে চালানো হয় নিবিড় তল্লাশি। দিনভর পুলিশের বিশেষ টহল দল সক্রিয় থাকায় নাশকতাকারীরা মাঠে নামার সাহসই পায়নি এবং প্রধান অভিযুক্ত দেলোয়ার টিটুসহ অন্য সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
কৌশল বদলেছে চক্রটি:
যুবলীগ ক্যাডার নেতা দেলোয়ার হোসেন টিটু পলাতক থাকায় তার সহযোগীরা এখন কৌশল পরিবর্তন করেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে: প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে পলাতক দেলোয়ারের ইশারায় তার কর্মীরা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঝোপঝাড় বা গোপন আস্তানায় বসে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে তারা এখনও গোপন বৈঠক চালাচ্ছে। হঠাৎ করেই প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বড় কোনো চক্রান্তের আভাস দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি:
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে বর্তমানে পাটকেলঘাটা সদরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম নির্বিঘ্নে করছেন। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন এখনো সর্বোচ্চ সতর্কতাবস্থায় রয়েছে।
পাটকেলঘাটা থানা পুলিশ জানায়:
জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ সর্বদা প্রস্তুত। কোনো ধরনের নাশকতা বা ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। যারা শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। তালা-পাটকেলঘাটা থানা এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।"
Copyright © 2026 দৈনিক আলোর সন্ধান. All rights reserved.