প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ৫:৩৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় বাপ্পি সাধুর বিরুদ্ধে কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি জবরদখলের অভিযোগ
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষার প্রস্তুতি, এসিল্যান্ড, ইউএনও-ডিসির জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
রবিউল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজারে প্রভাবশালীর ছত্রচ্ছায়ায় কোটি টাকা মূল্যের সরকারি ভিপি জমি জবরদখলের চেষ্টায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। পাটকেলঘাটা বাজারের নায়ান সাধু ছেলে বাপ্পি সাধুর বিরুদ্ধে সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা সংস্কারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরও প্রভাব খাটিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চলায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগে জানা যায়, পাটকেলঘাটা পাঁচ রাস্তার মোড় সংলগ্ন গোলাম হোসেনের মসজিদের উত্তর পাশে রাজেন্দ্রপুর ও পুটিয়াখালি মৌজার অন্তর্ভুক্ত সরকারি ভিপি জমিতে কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই বাপ্পি সাধু ঘরের সংস্কার কাজ শুরু করেন। নায়েব অফিসের মাধ্যমে একবার কাজ বন্ধ করা হলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুনরায় কাজ শুরুর ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তালা উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ ও লক্ষ লক্ষ টাকার অর্থদাতা হিসেবে পরিচিত বাপ্পি সাধু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পাটকেলঘাটা বাজারের কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন। সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবারকে কাজে লাগিয়ে গোপনে পুনরায় নির্মাণকাজ চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এমন তথ্য স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে একসময় সরকারি জমি স্থায়ীভাবে দখলে চলে যেতে পারে, যা রাষ্ট্রীয় সম্পদের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (ভূমি) জনাব রাহাত খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“তারা দ্রুত কাগজপত্র দেখাতে চেয়েছে। কাগজপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। তাদের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রভাবশালীরা বারবার সরকারি জমিতে হাত দেওয়ার সাহস পাচ্ছে? দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান, দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সরকারি জমি রক্ষার সকল উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এই বিষয়ে বাপ্পি সাধুকে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেনি।
এ বিষয়ে এসিল্যান্ড, ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Copyright © 2026 দৈনিক আলোর সন্ধান. All rights reserved.