গাজী শাহীন এর এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বিস্তারিত:
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেকে 'ধোয়া তুলসীপাতা' ও 'ষড়যন্ত্রের শিকার' প্রমাণের যে নাটকীয় অপচেষ্টা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা ইবাদুল ইসলাম করেছিলেন, তা সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ভেস্তে গেছে। আর এই 'প্ল্যান-এ' ব্যর্থ হওয়ার পর এবার নিজেকে বাঁচাতে 'প্ল্যান-বি' বা দেশত্যাগের মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছেন নগরঘাটা ইউনিয়নের এই বিতর্কিত ফ্যাসিস্ট নেতা।
নির্ভরযোগ্য ও একাধিক গোপন সূত্র নিশ্চিত করেছে, পাটকেলঘাটা ও নগরঘাটায় গড়ে তোলা শত কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্যের সম্পদ এখন তড়িঘড়ি করে বেনামে হাতবদল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ইবাদুল। তার মালিকানাধীন বিতর্কিত কোল্ড স্টোরেজ, সয়মিল এবং সরকারি খাদ্য গুদামের সিন্ডিকেটের শেয়ারগুলো রাতের আঁধারে বিক্রি করে নগদ অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হলো, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও দুদকের চোখ ফাঁকি দিতে এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে পাচারের ছক কষেছেন তিনি।
গভীর রাতের গোপন বৈঠক ও প্রশাসনের একাংশকে ম্যানেজের চেষ্টা: অনুসন্ধানে জানা যায়, ইবাদুলের 'কোটি টাকার মিশন'-এর একটি বড় অংশ এখন ব্যয় হচ্ছে সীমান্ত ও ইমিগ্রেশন পার হওয়ার রুট ক্লিয়ার করতে। প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ একটি ক্ষুদ্র অংশকে ম্যানেজ করতে তিনি টাকার বস্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। নগরঘাটার একটি অজ্ঞাত আস্তানায় গভীর রাতে কালো গ্লাসের গাড়িতে করে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির আনাগোনা লক্ষ্য করেছেন স্থানীয়রা। ধারণা করা হচ্ছে, দেশত্যাগের চূড়ান্ত রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে সেখানেই।
স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যে ব্যক্তি শত কোটি টাকার দুর্নীতি করে এখন হুন্ডিতে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করছে, তাকে পালাতে দিলে তা হবে শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি। আমরা প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে ইবাদুলকে গ্রেপ্তার করে তার পাসপোর্ট জব্দ করতে হবে।"
দুদক ও এনবিআরের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন: একের পর এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ—ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অপরাধের তথ্য প্রমাণসহ সামনে আসার পরও দুদক ও এনবিআরের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ দানা বাঁধছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কালো টাকার জোরে কি তাহলে পার পেয়ে যাবেন ইবাদুল?
এখন পুরো পাটকেলঘাটার মানুষের দৃষ্টি প্রশাসনের দিকে। ইবাদুল ইসলাম কি তার 'কোটি টাকার মিশন' সফল করে বিদেশে পাড়ি জমাবেন, নাকি তার আগেই তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে অবৈধ সম্পদের হিসাব আদায় করা হবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এ বিষয়ে ইবাদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তার ব্যবহৃত সবকটি মোবাইল নম্বর বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। (৪র্থ পর্ব আসচ্ছে)