
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুল ইসলামের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই দলবদলকে অনেকেই রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন নয়, বরং আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করে ওয়াহিদুল ইসলাম এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সেগুলোর কোনো সুষ্ঠু তদন্ত হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হঠাৎ দল ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেই বেশি প্রতীয়মান। এলাকাবাসীর ভাষ্য—ক্ষমতায় থাকলে এক আদর্শ, আর ক্ষমতা হারালে অন্য আদর্শ গ্রহণ—এ ধরনের রাজনীতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে বারবার ভঙ্গ করছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতউল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন ওয়াহিদুল ইসলাম। এ সময় আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস, সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তবে এই আনুষ্ঠানিকতায়ও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যাচাই না করে এভাবে দলীয় অন্তর্ভুক্তি বিএনপির সাংগঠনিক শুদ্ধতা ও নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের একাংশের আশঙ্কা, এ ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলীয় রাজনীতিতে পুনর্বাসন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তারা বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নতুন করে অন্তর্ভুক্তির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, কর্মকাণ্ড ও জনমত যাচাই করা।
সচেতন মহলের স্পষ্ট দাবি—দলবদলের রাজনীতির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে অতীত অপকর্মের বিচার, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। নচেৎ একই ব্যক্তিরা বারবার ভিন্ন পরিচয়ে রাজনীতির মঞ্চে ফিরে এসে জনগণকে বিভ্রান্ত করবে।