প্রিন্ট এর তারিখঃ নভেম্বর ১, ২০২৬, ৪:৪৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১১:৩৯ এ.এম
গুলশানের নিষিদ্ধ আ.লীগের মিছিল: পুলিশ ম্যানেজ ও মিছিলের অর্থদাতা —নেপথ্যে জুলাই একাধিক হত্যা মামলার আসামি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ রাজ্জাক খান রাজ

চায়নায় পালিয়ে যাওয়ার আগেই গ্রেফতারের দাবি বিএনপির নেতাকর্মীরা
সুমন সরকারের প্রতিবেদনে বিস্তারিত:
অনুসন্ধানী বেরিয়ে এসেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ঘিরে পুলিশের ভূমিকা, অনুমতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ১১ সেপ্টেম্বর গুলশান-৩ নম্বর সড়কে অনুষ্ঠিত ওই মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ ও গুলশান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. দাউদ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর তাদের প্রত্যাহারের খবর প্রকাশ্যে আসে।
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মিছিলে ১০-১২ জনের উপস্থিতি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে উপস্থিতির সংখ্যা কয়েক শো ছাড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠেছে।
পুলিশের অনুমতি—নাকি ম্যানেজ?
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন গুলশান বিভাগের ডিসি ও থানার ওসির ভূমিকা নিয়ে। ঘটনার নেপথ্যে কারা অর্থ, জনবল ও সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিল এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। তার মধ্যে পুলিশ ম্যানেজ ও জনবল, মিছিলে ১৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার মাষ্টারমাইন্ড নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম এ রাজ্জাক খান রাজের নাম ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে এসেছে।
৫ই আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন পরবর্তী তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ হাইড করে এম এ রাজ্জাক খান রাজ চীনে পালিয়ে যান। সেখান প্রতিনিয়ত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসন কে কোটি কোটি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে দেশে ফিরে গুলশানে নাশকতার পরিকল্পনা করেন বলে বিস্তার অভিযোগ ওঠেছে।
গুলশানে মিছিলের ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন হলো— মিরপুর ও চুয়াডাঙ্গায় জুলাই হত্যা মামলার আসামি এম এ রাজ্জাক খান রাজ গুলশানের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তার মিনিস্টার ইলেকট্রনিকস অফিসে বসেই মিছিলের আয়োজন, জনবল সংগ্রহ, অর্থায়ন ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের সমন্বয় কিভাবে পেল? তাকে আগেই কেন গ্রেফতার করা হয়নি এইসব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে?
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শেখ রেহেনা ও সালমান এফ রহমান এবং এস আলম কে ব্যবহার করে মাত্র ৭০ কোটি টাকার জমি দিয়ে ইসলামী ব্যাংক ও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপট করে রাজ্জাক খান রাজ ও তার স্ত্রী দিলরুবা তনুর নামে আমেরিকা, কানাডা ও চীন দেশে পাচার করেছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে অফিসে একাধিকবার গিয়েও পাওয়া যায় নি।
গুলশান বিএনপির একাধিক নেতার দাবি গুলশানের এই মিছিলের নেপথ্যে অর্থের লেনদেন, রাজনৈতিক সমন্বয় ও প্রশাসনিক ম্যানেজের মাস্টারমাইন্ড রাজ্জাক খান পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা হলে যাবতীয় তথ্যা বের হবে।
Copyright © 2026 দৈনিক আলোর সন্ধান. All rights reserved.