গাজী শাহীন, বিশেষ প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে যখন আইনের শাসন ও শৃঙ্খলা ফেরাতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে, ঠিক সেই সময়ে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার নগরঘাটা ইউনিয়নে এক ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এসেছে। পলাতক সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজ আহমেদ স্বপন এর রেখে যাওয়া শত কোটি টাকার কালোবাজারি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের গোপন অর্থায়নে এলাকায় নতুন করে রক্তক্ষয়ী নাশকতার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিতর্কিত এক সময়ের সুবিধাভোগী নেতা ইবাদুল ইসলাম। ক্রীড়াজগতের আড়ালে গড়ে ওঠা তার এই সিক্রেট নেটওয়ার্ক এখন গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১০০ কোটি টাকার কালো সাম্রাজ্য ও নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট:
একাধিক দায়িত্বশীল গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গত ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে যাওয়ার প্রাক্কালে বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজ আহমেদ স্বপন তার অবৈধ সাম্রাজ্যের নগদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা আমানত হিসেবে সঁপে দিয়ে যান এই ইবাদুলের হাতে।
বর্তমানে সেই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাদের হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো অর্থের জোরে পাটকেলঘাটায় সশস্ত্র নাশকতার এক ভয়ংকর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে ইবাদুল। সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটানোই এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য, যাতে প্রশাসনের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পলায়ন করা যায়।
খেলার আড়ালে অপরাধের সাম্রাজ্য ও হুন্ডিতে হাজার কোটি পাচার:
ক্রীড়া সংগঠক ও বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনার আড়ালে ইবাদুল দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলেছেন এক অপরাধের সিন্ডিকেট। কোল্ড স্টোরেজ ও সয়মিলের বেনামকৃত শেয়ার বিক্রির নগদ অর্থ এবং সাবেক এমপির রেখে যাওয়া শত কোটি টাকা বর্তমানে হুন্ডির মাধ্যমে দুবাই ও সিঙ্গাপুরে পাচারের পাঁয়তারা চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সাথে বসে একের পর এক গোপন বৈঠকও সম্পন্ন করেছে সে। ইমিগ্রেশন ও সীমান্ত রুটগুলো নিরাপদ করতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে প্রশাসনের একটি কুচক্রী মহলে দৌড়ঝাঁপ চালালেও সচেতন মহল ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে তা প্রায় ভেস্তে গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুদকের সাঁড়াশি নজর:
ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, ক্ষমতার অপব্যবহার করে শত কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং দেশবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা—এই সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগগুলো এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার টেবিলে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে তাকে গ্রেপ্তারের জোরালো গুঞ্জন চলছে চারদিকে।
ইবাদুলের এসব অপকর্মের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পাটকেলঘাটার সর্বস্তরের জনগণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। শহীদদের রক্তের সাথে বেইমানি করে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে, তাদের কঠোরহস্তে দমনের হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অবিলম্বে ইবাদুলকে গ্রেপ্তার, তার পাসপোর্ট জব্দ এবং সাবেক এমপির শত কোটি টাকার উৎস ও পাচারচেষ্টার শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিতে প্রশাসনকে **৭২ ঘণ্টার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম** দিয়েছে এলাকাবাসী।
পাটকেলঘাটা ও নগরঘাটার মানুষের একটাই সাফ কথা—নাশকতার এই মাস্টারমাইন্ড ইবাদুলকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সমস্ত দায়দায়িত্ব প্রশাসনকেই নিতে হবে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ইবাদুলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তাকে এলাকায় বা তার নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাওয়া যায়নি।