
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের কৈয়খালি এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) কৈয়খালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি জমিকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের ওই জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। সোমবার সকালে হঠাৎ করে এলাকার কিছু লোক একত্রিত হয়ে জমির সব গাছ কেটে ফেলে জমিটি ফাঁকা করে দেয়।
এলাকাবাসীর একাংশ জানান, জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলায় তারা জমিটি দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যে গাছ কেটে ফাঁকা করেছেন।
স্থানীয়রা আরও জানান, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিবাদী ইউছুফ আলী সরদারের ছেলে আতাউরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মতবিরোধ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগে কয়েকবার স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
বিবাদী পক্ষের ইউছুফ আলী সরদারের ছেলে আতাউর জানান, জমিটি নিয়ে সিভিল কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। তিনি দাবি করেন, “মামলায় আমাদের পক্ষে দুটি রায় রয়েছে। বাদী পক্ষ আদালতে মামলা করেছে, কিন্তু এখনো কোনো চূড়ান্ত রায় হয়নি। এর মধ্যে হঠাৎ করে বাদী পক্ষ এলাকার লোকজন জড়ো করে জমি দখলের চেষ্টা করে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন। তাদের মধ্যে জাকির, শাহিন, বুরুজ, সুব্রত, তারক ও জয়দেবসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি। আতাউরের দাবি, তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে হয়রানি করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় মামলার বাদীকে ডেকে আনা হয় এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরে জাকির ঘটনাস্থলে আসেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় জাকিরের বড় ছেলে শাকিল ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “এখানে পুলিশ কিডা, পুলিশকে গুনিনা।” এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পুলিশকে ঘিরে ধরার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিদ্যালয়ের সামনে হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।